Quick Overview
Availability: In Stock
Janma Vita An Unamicable Novel, Written by Narayan Samat
"Tongues, like governments, have a natural tendency to degeneration."
বিগত বছরগুলোর মতন এ বছরও যথারীতি খলাগেড়িয়া গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে দেওয়ালীর রাতে শ্রীশ্রীশ্যামামায়ের পূজো হোল। চতুর্দশীর রাত।
আনন্দ উৎসবের সীমা নেই। এই একটি রাত-যেখানে গ্রামের জাত-ধর্ম-নির্বিশেষে সকল আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা মন-প্রাণ ঢেলে আনন্দ করতে কোনো দ্বিধা এবং কার্পণ্য করে না। বন্দ্যোপাধ্যায়রা এ গ্রামে ঊনপঞ্চাশ সালের আগের পুরোনো জমিদার। এখন জমিদারী নেই কিন্তু পরিবারের বর্তমান কর্তা শ্যামসুন্দর বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রামের প্রতিটি মানুষ জমিদার হিসেবেই চেনে এবং জানে। চাকরী ও ব্যবসা সূত্রে মায় রাজনীতির চাপে অতিষ্ঠ হয়ে শ্যামসুন্দরবাবুরা বর্তমানে কলকাতায় স্থায়ীভাবে চলে গেলে কি হবে-বৎসরের এই বিশেষ দিনটিতে পরিবারের প্রায় সকলেই এখানে আসেন। গ্রামের সকলের সঙ্গে সমানভাবেই পূজোয় আনন্দ করেন, শ্রদ্ধা-ভক্তি-ভালবাসা বিলিয়ে দেন। সম্প্রীতির একটা গভীর মেল বন্ধন তখন সারা গ্রামটিকেই এক ও আপন করে তোলে। কোন বিভেদ এবং কোন দ্বন্দ্ব তখন কাউকে ছুঁতে পারেনা। বন্দ্যোপাধ্যায়রা এই সময় গ্রামের গরিব মাহিষ্য এবং গরিব ডোম, হাড়ি, শবর, মুচি প্রভৃতি হিন্দু নিম্নবর্গের মানুষদের নতুন পোশাক ও নগদ কিছু অর্থ দান করেন। প্রতিমা বিসর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই মানুষগুলোর খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। দু-রাত্রি কবিগান হয়, দু-রাত্রি রামায়ণ গান এবং শেষ দু-রাত্রি কলকাতার নামি যাত্রাদল এসে তাঁদের পালাগান করে যায়। গ্রামের মানুষদের প্রতি এই ভালবাসাটিকে বর্তমান রাজনৈতিক দলের নেতা বাবুরা বলেন, এটা আদিখ্যেতা। সে যে কত বড়লোক এবং জনদরদি মানুষ সেটাই শ্যাম বাঁডুজ্যে প্রতি বছর প্রমাণ দিতে আসে। আবার কোন নেতা বলেন, আসলে বড়লোকি অহংকার। মানুষকে ছোট করে রাখার যত্তসব ফন্দি। এভাবে মানুষকে ওইসব শয়তানের মুখোশধারী বুর্জোয়া মানুষরা গরিবদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দয়া করে এবং পরোক্ষভাবে অপমান করে।
শ্যামামায়ের মূর্তিটি হয় প্রায় ন' হাত লম্বা। যেমন স্বাস্থ্যবতী তেমনি ভয়ংকর দর্শন। চতুর্দশীর ঘোর অন্ধকার রাতে যখন পূজক ব্রাহ্মণরা বেশ বড় উঁচু চৌকির উপর দাঁড়িয়ে ঘন্টা নেড়ে মায়ের মুখের সামনে আরতি করেন এবং তিন-চারটে ঢাক আরতির ছন্দে-ছন্দে তালে-তালে বেজে ওঠে, শংখ-ঘড়ি-কংশাল একসঙ্গে বাজে-সব মিলিয়ে তখন মাইকের আওয়াজটাকে মনে হয় এক অদ্ভুত বিচিত্র মেলোডি। কানে তালা লেগে যাওয়ার জোগাড়। পাঁঠাবলি দেওয়া হয় এবং বলির রক্তে স্নাত অশিক্ষিত ডোমপাড়ার যুবক দল দেশি ও